যদি জিজ্ঞাসা করি কোন ধরণের গান সারা বিশ্বে সর্বকালে সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়, তবে হয়তো অনেকেই
ধন্দে পড়ে যাবে ৷ কিন্তু এর অতি সহজ উত্তর হল--গুন্ গুন্ করে গান! বাসে-ট্রামে-ট্রেনে-খনিতে এমন কি
নাৎসী ক্যাম্পেও গুন্ গুন্ করে গান গাইবার লোকের অভাব হয় না ৷ এর জন্য কেউ কাউকে পয়সা দেয় না, এমন কি
একজনের গুনগুনানিতে অন্যেরা অনেক সময়ে বিরক্তও হয়, তবু মানুষ নিজের আনন্দে নিতান্ত হেঁড়ে গলাতেও
গুন্ গুন্ করে থাকে ৷
কন্ঠ সঙ্গীতের জগতে যেমন গুন্গুনানি, তেমনি যন্ত্রসঙ্গীতের জগতে হল টুংটাং করা ৷ হাতের কাছে
একটা গীটার আছে, অমনি ইচ্ছা করে তারগুলোয় একটু টংকার করে শব্দ করি ৷ হার্মোনিয়মের রীড টিপে
প্যাঁ পোঁ আওয়াজ করি, পাশের বাড়ির ছেলেটার মাউথ অর্গানে ফুঁ মেরে দেখি সুর বেরোয় কিনা ৷
দুঃখের কথা অধিকাংশ সময়েই যেটা বেরোয় সেটার সঙ্গে সুরের চেয়ে অসুরের মিলই বেশী ৷ টুংটাঙের সঙ্গে
গুন্গুনাণির এই একটা মস্ত তফাৎ ৷ নিজের গুন্ গুনানি নিজের কানে সাধারণতঃ ভালোই শোনায়, কিন্তু
নিজের টুংটাঙের শব্দ নিজের কানেই এমন বেসুরো ঠেকে যে তাড়াতাড়ি চারদিকে চেয়ে দেখি--কেউ শুনে ফেলল
কিনা!
এই নিয়ে প্রাণে ভারী দুঃখ ছিল ৷ ওস্তাদ গায়ক হতে চাই নে, নিজের মনে গুন্ গুন্ করেই আমি খুশী ৷
তেমনি ওস্তাদ বাজিয়ে হবারও সাধ নেই, খালি যদি সহজ কোনো যন্ত্রে টুং টাং করে সুর তুলতে পারতাম ৷
একবার একটি ছেলেকে দেখেছিলাম, সে পাতা দিয়ে কি করে একটা ভেঁপু বানিয়ে তাতে দিব্যি সুন্দর
একটা মেঠো সুর বাজিয়ে শুনিয়েছিল ৷ সত্যি বলব, মনে মনে Einstein হতে যতটা ইচ্ছে
হয়েছে, তার চেয়েও অনেক বেশী ইচ্ছে হয়েছে এই কৌশলটা রপ্ত করতে ৷ ভেঁপু বানানোটা ততটা নয়,
অনায়াসে একটা সহজ সুর বাজাতে পারার অশিক্ষিতপটুত্বকে মনে মনে ঈর্ষা করেছি ৷
বিভিন্ন সময়ে অনেকের সান্নিধ্যে এসেছি যারা একেকটা যন্ত্র ভালো বাজাতে পারে ৷ তারা ওস্তাদ, কিন্তু সেই
চট্ করে টুং টাং করতে পারার রহস্য কেউই বলতে পারে নি ৷ ৷ মনের বাসনা এদের কাছে ব্যক্ত করতে
গেলে অনুকম্পার হাসি হেসেছে--যেন আমি বহুবছরের আয়াস-সাধ্য ধন ফাঁকি দিয়ে মেরে দেবার চেষ্টা
করছি ৷
মজার কথা হল টুং টাং করার একটা সহজ কায়দা কিন্তু সত্যিই আছে ৷ যে কায়দা জানলে অনেক যন্ত্র
থেকেই নিজের ইচ্ছে মত সুর বার করা সম্ভব ৷ সেটা শেখানোই এই ''টুং টাঙের টিউটোরিয়ালের'' উদ্দেশ্য ৷
টুং টাঙের মূল কথা
যে কোনো বাজনারই মূল উদ্দেশ্য হল শ্রুতিমধুর শব্দ উৎপাদন ৷ শ্রুতিমধুর শব্দ আমাদের চারধারে বিস্তর
হয়ে চলেছে--পাখীর ডাক, ঝরণার শব্দ ইত্যাদি ৷ কিন্তু সাধারণতঃ কোনো বাজনাই এই সব শব্দের
অনুকরণ করে না ৷ যে ধরণের শব্দকে অনুকরণ করতে গিয়ে বিভিন্ন সুরেলা যন্ত্রের উৎপত্তি
সেটা হল মানুষের কন্ঠস্বর ৷ মানুষের কানে মানুষের গলাটা বড়ই মধুর শোনায় ৷ এবং যে কোনো
বাজনার পিছনেই মূল অনুপ্রেরণা হল আমাদের কন্ঠস্বর ৷ আমরা সবাই প্রচুর কথা বলে থাকি, এবং কথার
মাধ্যমে ভাবপ্রকাশ করাটা আমাদের পক্ষে খুবই সহজ ৷ এই অতি পরিচিত অভ্যাসটার সঙ্গে বাজানোর যোগসূত্রটা
বুঝতে পারলেই টুং টাং করাটা অতি সহজে আসে ৷ এই যোগসূত্রটা কি বোঝা যাক ৷
আমরা কথা বলতে গিয়ে শব্দ করি ৷ এই শব্দটা দু রকমের ৷ এক, যখন আমরা একটা নতুন আওয়াজ শুরু করি,
এবং দুই, যখন একটা আওয়াজকে টানতে থাকি ৷ একটা
উদাহরণ নিই ৷ ধরো তুমি বলছ
''আমি ভাত খাই''৷
তুমি এই কথাটাই বলার চেষ্টা কর মুখ বন্ধ
করে, কেবল হুঁ হুঁ
শব্দ করে ৷ ঠিক যেমন করে আমরা কোনো গানের কথা ভুলে গেলে খালি হুঁ হুঁ করে সুরটা ভাঁজতে
থাকি--
''এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে হুঁ হুঁ হুঁ হুঁ হুঁ হুঁ হুঁ হুঁ হুঁ!''
কয়েকবার ''আমি ভাত খাই''
বাক্যটা এইরকম হুঁ হুঁ করে বল ৷ লক্ষ কর যে তুমি সব সময়েই ''আ''-তে একবার হুঁ করছ, ''মি''-তে
আরেকবার, ''ভা''-তে তৃতীয়বার, এবং ''খা''-তে শেষবার ৷ এখানে প্রত্যেকটা হুঁ হল আওয়াজের শুরু ৷ তার মানে
আওয়াজের শুরুগুলো হল
আ মি ভা খা৷
বাদ রইল ভাত-এর ত এবং খাই-এর ই ৷ এরা হচ্ছে আওয়াজকে টেনে নিয়ে
যাওয়ার উদাহরণ ৷ তার মানে এখানে আওয়াজের চারটে খণ্ড আছে, যাদেরকে আমরা এইভাবে দেখাতে পারি--
আমিভাতখাই
আরেকটা বাক্য দেখি--''আমি বাড়ি যাই৷'' এটাকেও হুঁ হুঁ করে বলার চেষ্টা কর ৷ লক্ষ করবে যে এখানে আওয়াজের
শুরুগুলো হল
আ মি বা ড়ি যা ৷
খালি যাই-এর ই-টাতে আওয়াজকে টেনে যাওয়া হচ্ছে ৷ সুতরাং এখানে পাচ্ছি পাঁচটা
খণ্ড--
আমিবাড়িযাই
যাকে আমরা আওয়াজের শুরু বললাম, তাকে বোধহয় ভদ্র ভাষায় স্বরাঘাত বা শ্বাসাঘাত জাতীয় কিছু একটা বলে ৷
ইংরাজীতে syllable বলে যে ব্যাপারটা আছে সেটা বোধহয় আমরা যাকে আওয়াজের খণ্ড
বললাম সেটারই আরেকটা নাম৷
তবে ঠিক জোর দিয়ে বলতে পারব না ৷
এই বার একটা গানের লাইন নিয়ে একই কাজ করা যাক ৷ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের এই গানটা সবাই শুনেছে--
''আমি গান গাই, তোমাদের অনুরোধে যে গান করেছি শুরু কেমনে করব সারা সে তো জানা নাই৷''
এর মধ্যে
''আমি গান গাই'' অংশটা প্রথমে নিতান্ত গদ্যময়ভাবে বল, ঠিক যেমন করে ''আমি ভাত খাই'' বলে ৷ যদি
হুঁ হুঁ করে বলার চেষ্টা কর তবে দেখবে এখানেও আওয়াজের খণ্ডগুলো একেবারেই ''আমি ভাত খাই''-এর মতই--
আমিগানগাই
এবার গানটা সুর দিয়ে গাও ৷ হুঁ হুঁ করে সুর ভাঁজার মত করে ৷ লক্ষকরবে যে যতই সুর দাও না কেন,
আওয়াজের খণ্ডগুলো কিন্তু একটুও বদলাচ্ছে না! বস্তুতঃ চাইলে তুমি অতি বিটকেল কোনো সুরেও গেয়ে দেখার চেষ্টা
করতে পারো, কিন্তু যতই যা কর না কেন, আওয়াজের খণ্ডগুলো বদলানো অসম্ভব! তাই বলতে পারো যে যেকোনো
গানেরই মূল কাঠামোটা আসে মানুষের প্রতিদিনের বলা কথার ভঙ্গী থেকে ৷ তার জন্য একটুও গান
বা পিয়ানো, তবলা কি তানপুরা কিচ্ছু জানতে হয় না!
সুতরাং যখনই কোনো গানের লাইন টুং টাং করে বাজাতে চাইবে, প্রথম ধাপটা হবে লাইনটা নিতান্ত
গদ্যময়ভাবে বলা, এবং তারপর সেটাকে হুঁ হুঁ করে বলার চেষ্টা করা ৷ এ থেকে তুমি আওয়াজের খণ্ডগুলো
পেয়ে যাবে ৷ কয়েকটা উদাহরণ দেখি ৷ ধরো বাজাতে চাও ''কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই৷'' হুঁ হুঁ
করলেই বুঝবে আওয়াজের খণ্ডগুলো এইরকম--
কফিহাউসেরসেইআড্ডাটাআজআরনেই
যদি বলি ''পুরাণো সেই দিনের কথা'' তবে হবে
পুরাণোসেইদিনেরকথা
যদি খুব দাঁতভাঙা উদাহরণ নিতে চাও, যেমন ''অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জনশলাকয়া'', তবে পাবে
অগ্গানতিমিরান্ধস্সজ্ঞানান্জনশলাকয়া
কি যন্ত্র
এই বার এই প্রত্যেকটা আওয়াজের খণ্ডে সুর লাগিয়ে টুং টাং করতে হবে ৷ সেটা কি করে করতে হবে সেটা
নির্ভর করছে তুমি কি যন্ত্রে বাজাচ্ছ তার উপরে ৷ যদি হার্মোনিয়াম, বা পিয়ানো বা সিন্থেসাইজার জাতীয়
কী-বোর্ডে বাজাও, তবে মনে রাখবে যে এই যন্ত্রগুলো কেবলমাত্র আওয়াজের শুরুগুলোই বাজাতে পারে, টানতে পারে
না (যদিও আঙুলের আলতো চাপে এমন শ্রুতিবিভ্রম ঘটানো সম্ভব, যাতে মনে হয় যেন একই আওয়াজকে
ইনিয়ে বিনিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তবে টুং টাং করার জন্য সেই সব সূক্ষ্ম কায়দা লাগবে না) ৷ যদি
হাওয়াইয়ান গীটারে বাজাতে চাও, তবে জানবে যে প্রত্যেকবার তারটাকে আঙুল দিয়ে টানলে নতুন আওয়াজের শুরু হয়,
এবং স্টীলটাকে তারের উপর বোলালে একই আওয়াজ টেনে চলতে থাকে ৷
অন্যান্য যন্ত্রের ক্ষেত্রেও একইরকম ব্যপার হওয়া উচিত, যদিও কোনো দিন বাজিয়ে দেখি নি, তাই ঠিক জানি না ৷
যদি বেহালা জাতীয় ছড়ের বাজনা হয়, তবে বোধহয়
যখনই ছড়ের গতির অভিমুখ নতুন করে শুরু হবে (মানে টানা শুরু হবে বা ঠেলা শুরু হবে) তখনই
নতুন আওয়াজের শুরু ৷ ছড়টা যতক্ষণ একইদিকে টানতে থাকবে ততক্ষণ একই আওয়াজ ইনিয়ে বিনিয়ে চলতে থাকবে ৷
অবশ্য এটা আমার অনুমান মাত্র ৷
আমরা এখানে কী-বোর্ড ব্যবহার করে বোঝাব ৷ তার প্রধান কারণ হল এতে আওয়াজের শুরুগুলো নিয়ে মাথা
ঘামালেই চলবে (যে সব গানে একই আওয়াজকে অনেকক্ষণ টেনে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপার আছে, সেগুলো অবশ্য
কী বোর্ডের টুং টাং দিয়ে ভালো উঠবে না) ৷ তবে বহু গানই চমৎকার শোনাবে ৷ দ্বিতীয় কারণ হল
কী-বোর্ড খুব সস্তায় পাওয়া যায় ৷ কলকাতায় ফড়িয়াপুকুরে বাচ্চাদের বেশ কয়েকটা খেলনার দোকান
আছে, সেখানে
এক ধরণের
made in China খেলনা কী বোর্ড পাওয়া যায়, সাড়ে তিনশো টাকা দাম (এটা 2015-এর কথা),
তাতে টুং টাঙের কাজ দিব্যি
চলে ৷ ভেবো না যেন এটা ফড়িয়াপুকুরের দোকানগুলোর কিংবা ওই কী-বোর্ড কোম্পানির বিজ্ঞাপন৷ আগেভাগেই বলে
দিই যে এই কী-বোর্ডের আওয়াজ ভীষণ শ্রুতিসুখকর কিছু নয়, তবে আমাদের কাজ চলার পক্ষে যথেষ্ট৷
জনৈক উৎসাহী বন্ধু সম্প্রতি virtualpiano.net নামের
একটি website-এর কথা জানিয়েছেন, সেখানে একটি online piano আছে, যেটা কম্পিউটারের
কী-বোর্ড টিপেই দিব্যি বাজানো যায়, এবং তার জন্য কোনো পয়সাও লাগে না৷ হাতের কাছে অন্য পথ না থাকলে সেই
বিনাপয়সার বীণা দিয়েই শুরু করতে পারো৷
ধরা যাক তোমার হাতে এখন দুটো জিনিস--এক, কোনো একটা পরিচিত গানের লাইন যেটা তুমি বাজাতে
চাও, আর দুই, একটা কী-বোর্ড ৷ প্রথমেই তুমি গানের লাইনটাকে হুঁ হুঁ করে গেয়ে ছোটো ছোটো আওয়াজের
খণ্ডে ভেঙে নেবে ৷ এরপর খালি বাকি থাকে একটাই জিনিস-- প্রত্যেকটা খণ্ডের জন্য কোন রীডটা টিপতে হবে, এবং
টিপে কতক্ষণ ধরে রাখতে হবে ৷ এদের মধ্যে দ্বিতীয়টা তুমি কানে শুনেই অনায়াসে বুঝতে পারবে ৷ কিন্তু
কোন খণ্ডের জন্য কোন রীডটা টিপতে হবে সেটা বলে না দিলে বার করা সহজ নাও হতে পারে ৷ একটা
উদাহরণ নিয়ে দেখি ৷ ধরো এই লাইনটা
''মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ্ হল বলিদান্''
কিভাবে প্রাণ না লিখে প্রাণ্ লিখেছি লক্ষ কর ৷ কিন্তু মন্দির্ লিখিনি ৷ এতেই বোঝা যাচ্ছে যে এখানে মন্দির
উচ্চারণ হবে মন্দির-অ ৷ যাই হোক, এই লাইনটা আশা করি তুমি বহুবার শুনেছ, তাই উচ্চারণগুলো ভালো
করেই জানো ৷ আওয়াজের খণ্ডে ভেঙে নিলে হবে
মুক্তিরমন্দিরসোপানতলেকতপ্রাণ্হলবলিদান্
কী-বোর্ডের সঙ্গে প্রথম পরিচয়
কখন কোন রীডটা টিপতে হবে সেটা বোঝানোর জন্য রীডগুলোর নামকরণ করে নিলে সুবিধা হবে ৷ নানাভাবে
এই কাজ করা যায় ৷ কেউ a,b,c ইত্যাদি অক্ষর দিয়ে নাম দিতে ভালোবাসেন, কেউ লেখেন do, re, mi ইত্যাদি
নাম ৷ তবে আমরা ভারতীয়রা ব্যবহার করি সা রে গা মা পা ধা নি নামগুলো৷ এক্ষুণি যে কী-বোর্ডের ছবিটা
দিয়েছি সেটার দিকে তাকালেই
দেখবে যে কালো রীডগুলো দুই এবং তিনের দলে সাজানো৷ এরকম একটা
দুয়ের দল এবং একটা তিনের দল, এবং তাদের গায় লেগে থাকা সাদা রীডগুলোকে একত্রে বলে
একটা সপ্তক৷
নীচের ছবিটা দেখলে ব্যাপারটা স্পষ্ট হবে৷
কী-বোর্ডের মঝামাঝি জায়গায় যে সপ্তকটা আছে সেটা দ্যাখো৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বাঁদিকের সাদা
রীডটাকে বলব সা৷ তার ডানদিকের
সাদাটার নাম রে, ইত্যাদি৷ সুতরাং এইভাবে কী-বোর্ডের মাঝামাঝি জায়গায় যে সপ্তকটা আছে তার সবগুলো সাদা
রীডের নাম দেওয়া হল৷ এর ডানদিকের সপ্তকের সাদা রীডগুলোরও একই নাম, খালি মাথায় একটা করে
রেফ্ থাকবে ৷ বাঁদিকের সপ্তকের বেলায় রেফের বদলে হসন্ত (ছবিতে কমা দিয়ে বুঝিয়েছি) ৷
কালো রীডগুলোর নাম দেওয়া হয় এইভাবে--
সুতরাং আমরা কোথায় কোন রীড টিপতে হবে সেটা এইভাবে লিখে দিতে পারি--
গা
গা
গা
গা
গা
গা
মা
গা
রে
সা
নি,
মুক্
তি
র
মন্
দি
র
সো
পা
ন
ত
লে
এটা হল স্বরলিপি ৷
এইভাবে লিখে বোঝানোর একটা অসুবিধা হল পড়বার সময়ে মাথা গুলিয়ে যায়৷
রীডগুলোর নামও অক্ষর দিয়ে, আবার গানের কথাগুলোও অক্ষর দিয়ে, যেমন ''সোপানতলে''-এর ''পা''-এর জন্য ''গা''
টিপতে হবে৷ প্রথম প্রথম ভুল করে ''পা'' রীডটা টিপে দেবার প্রবণতা আসে৷ দ্বিতীয় সমস্যাটা হল
খালি একরাশ অক্ষরের স্তূপ দেখে সুরের ওঠানামা আন্দাজ করা যায় না, ফলে মনে রাখাটা সহজ হয় না৷ সেই
কারণে অনেকে আরেকটা notation ব্যবহার করে, যেটাতে পুরো সুরটা ছবি এঁকে প্রকাশ করা হয়৷
বোঝার সুবিধার জন্য প্রথমে কী-বোর্ডটাকে বাঁদিকের মার্জিনে খাড়া করে আঁকব,
আর কয়েকটা লম্বা লাইন টেনে নেব ৷ এবার গানের কথাগুলোকে উঠিয়ে নামিয়ে লিখব, এইভাবে-
তবে এভাবে আঁকাটা বেশ কঠিন ৷ তাই আরেকটু সহজ করব এইভাবে ৷ বাঁদিকের কী-বোর্ডটা আর কষ্ট করে আঁকব
না ৷ খালি একটা বিশেষ চিহ্ন এঁকে দেব--
এইভাবে যে notation-টা পাব তাকে বলে staff notation. এই
notation-এর অবশ্য আরও অনেক খুঁটিনাটি আছে, যেগুলো টুং টাং করার জন্য প্রয়োজন হবে না৷
আমাদের উদাহরণে জিনিসটা দাঁড়াচ্ছে এইরকম-
বাজাব কি করে?
এই কাজটা খুবই সহজ৷ প্রথমে ভালো করে দেখে নাও যে প্রথম ছয়বার একই রীড টিপতে হবে, তার পর
''সোপানতলে''-র গোড়ায় একঘর ডানদিকে সরে পরপর বাঁদিকে যেতে হবে৷ এইবার যেমন যেমন রীড টিপবে
মুখে গানের সেই অংশের কথাটুকু বলবে, ফিস্ ফিস্ করে নয়, জোরে জোরে স্পষ্ট উচ্চারণে, যাতে তুমি নিজে
স্পষ্ট শুনতে পাও৷ বার কয়েক বাজালেই বুঝবে যে গানের অতি পরিচিত সুরটাই তোমার হাত থেকে বেরোচ্ছে!
আর কি বাজানো যায়?
বাজানোর জন্য গানের অভাব নেই ৷ তবে সহজ গান দিয়ে শুরু করাই ভালো ৷ এই ধরো একটা লাইন--
এখানে একটা নতুন চিহ্ন আছে, ছোটো হাতের b-এর মত দেখতে৷ ওই চিহ্নটা না থাকলে যে রীডটা টিপতে,
ওই চিহ্নটা থাকার ফলে টিপবে তার বাঁদিকের কালো রীডটা ৷ একে ইংরাজীতে বলে flat, আর
বাংলায় বলে ''কোমল'' ৷
যদি স্বরলিপি দিয়ে লিখতাম তবে হত
র্সা
নি
র্সা
পা
দ
দ
পা
মা
পা
দ
নি
র্সা
ও
রে
ভাই
ফা
গুন
লে
গে
ছে
ব
নে
ব
নে
এক গুচ্ছ গানের টুং টাং সুর
এই সুরগুলো জোগাড় করেছি দুই জায়গা থেকে--এক, সুভাষ চৌধুরী সংকলিত 'মুক্তির গান' নামের
দুই খণ্ড বই থেকে, আর দুই, স্বরবিতান থেকে ৷ স্বরবিতানের scan
করা পাতাগুলো পেয়েছি
http://www.geetabitan.com
থেকে ৷ এই সব জায়গায় সুরগুলো অবশ্য অনেক বেশী সূক্ষ্মভাবে দেওয়া আছে ৷ টুং টাঙের জন্য অত সূক্ষ্ম
কারুকার্যের দরকার নেই ৷ তাই সে সব ছেঁটে বাদ দিয়েছি ৷ প্রত্যেকটা সুরই বাজালে চমৎকার চিনতে পারা যায় ৷
No comments:
Post a Comment